সৈয়দ হকের জলেশ্বরী, কুড়িগ্রাম শহরের কোমর জড়িয়ে
যে ধরলা নীরবে দূরপথে কালের স্রোতে ভেসে চলছে
তাকে সাক্ষ্মী রেখে বলছি-
ভরা পূর্ণিমায় দুধকুমারের তীরে তোমাতে চাই স্বপ্নের অধিষ্ঠান
তুমি কি আসবে; আমার স্বপ্নের বনলতা সেন।
গোল হয়ে বসে তরুণ কবির দল; মধ্যমণি হুমায়ুন আজাদ
গদ্য ও ছন্দের দোহাই দিয়ে কবিতার মূণ্ডুপাত করে চলছি
পাশ থেকে ছফা ভাই- থোন বাহে এসব আজগুবি কারবার
আমি লিখছি আমার জন্য; ইচ্ছে হলে খাবেন নয়তো বদহজম হবে।
হঠাৎ ধরলার বুকে ভূস করে ভেসে ওঠে দলছুট কোন শুশুক
জলেশ্বরীর বাঁকে বাঁকে শরতের কাশফুল কবিতা হয়ে ফোটে
ত্রিশ বসন্ত পেরিয়ে আজও ভাবি-
আমি কি কবিতা ভালবাসি, না কি কাশফুল ভালবেসে
এ শরতে তোমার চেয়েছি অধিষ্ঠান।
চিলমারী থেকে শেষ ট্রেনে ফেরে ব্রহ্মপুত্র সন্তান নাহিদ হাসান
চোখমুখে একশেষ হতাশা নিয়ে বলে-
শুধু কবিতা খেলে হবে; রাষ্ট্রচিন্তায় মন দে পাগলের দল
দূরে র্যাবোর অকাল মৃত্যু শোক হাতছানি দিয়ে ডাকে
কর্ণপাত করে না কেউ, চাঁছাছোলা সমালোচনা উঠে আসে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাস।
এ শহরে একা রাতজাগা পাখি হয়ে; কবিতা কি কেউ পড়ে
জানি না, জানা নেই; জানা হয়না কিছুই
কেন জলেশ্বরীর মায়ায় সৈয়দ হক হয়েছেন ব্যাকুল
কুড়িগ্রামের কোমর জড়িয়ে জলেশ্বর ধরলা
ত্রিশ বসন্ত কাটলো অথচ আমায় জড়ায় নি কেউ...
