বৃষ্টি যে বিধাতার এক অপূর্ব সাঝ ।। এস এ বিপ্লব


উপরে বৃষ্টি ,চারপাশে  দৃষ্টি,বিধাতার কি যে  সৃষ্টি,   সত্যি শব্দ গুলি যেমন খুব সুন্দর তেমনি মনোমুগ্ধকর। বৃষ্টির দিনে অনেকের অনেক কিছুই ভালো লাগতে পারে। বিশেষ করে বলব কবি- সাহিত্যিক দের কথা। কেননা বৃষ্টির সময় একটু হারিয়ে গেলে অনেক কবিতা, গল্প লিখা আসে।  বৃষ্টি থেকে অনেক কিছুই সৃষ্টি হতে পারে। যেমন -  কবিতা,গল্প বা উপন্যাস লেখা। কিংবা যে যেভাবে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। অনেক পরিবার আবার  খিচুড়ি রান্নার ধুম আয়োজন করে। কেউ বা আবার নানান ঘরোয়া খেলার আয়োজন করে থাকে লুডু,ক্যারাম, ষোল গুটি ইত্যাদি। অর্থাৎ যে যেভাবে  বৃষ্টি কে তার মনের মাধুরি দিয়ে  সাজিয়ে নিতে পারে।  তবে আমার কাছে বৃষ্টির দিনে সবচেয়ে ভালো লাগে দুটি দৃশ্য যার একটি হলো পুরুষের কান্না। এটা কে আমি বৃষ্টির  বড় সৃষ্টির একটি অংশ বলে মনে করব। কেননা পুুরুষের কান্না খুব সহজে কেউ দেখে না। আবার পুরুষ চাইলেই সব জায়গাতে কাদতেঁ পারে না।তাই অনেক পুরুষ আছে যারা বৃষ্টির দিনে বৃষ্টি তে ভিজতে খুব  ভালোবাসে। বৃষ্টিকে এই ভালোবাসার প্রধান কারন হলো,কিছু পুরুষ আছে বিরহে ভরপুর, কিন্তু কান্না করতে পারে না। তখন তারা বৃষ্টিতে নিজেকে দেয় হারিয়ে। বৃষ্টির পানি আর নয়নের জল যখন এক হয় তখন কেউ বুঝতে বা ধরতে পারবে না বলে। কোনটি বৃষ্টির পানি আর কোনটি চোখের পানি।মজার বিষয় হলো,  চোখের জলের কোন রং নেই।তবুও পৃথিবীতে এই একটি মাত্র বিষয় যার কোন রং না থাকলেও   কিন্তু  নাম আছে।    যেমন : আনন্দ অশ্রু, মায়া কান্না, বেদনার কান্না।আনন্দ অশ্রু সবার ভাগ্যে থাকে বা আসে না। মায়া কান্না বেশীর ভাগ দেখা যায় শিশু আর নারীর ভিতর। আর বেদনার কান্না এটা সবার ভিতর কোন না ভাবে একবার আসবেই।  আমার বৃষ্টিতে আর একটি বিষয় ভালো লাগে তা  হলো, বৃষ্টির সময় প্রকৃতির মাঝে তাকালে যখন দেখি নীড়হারা পাখি গুলো বৃষ্টি তে ভিজে। মানুষ দেখে কিন্তু মজা নিচ্ছে বা আনন্দ পাচ্ছে। কিন্তু  যে পাখী বৃষ্টি তে ভিজে , সে পাখী সর্বদা নীড়হারা হয়ে থাকে। নীড়হারা ছাড়া কোন পাখী বৃষ্টিতে ভিজবে না। আমাদের সমাজে যেমন - নীড়হারা মানুষ গুলো রাস্তার ফুটপাতে কিংবা রেললাইনের ধারে বসবাস করে। তেমনি নীড়হারা পাখি গুলোও বৃষ্টিতে ভিজে। যা দেখে আমি,আপনি কিংবা আমরা আনন্দ পেয়ে থাকি। কবির ভাষায় বলতে গেলে-  ""বৃষ্টি, বৃষ্টি, বৃষ্টি, বৃষ্টি যে বিধাতার এক অপরূপ সৃষ্টি - বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে হাজার মানুষের নয়ন দৃষ্টি, বৃষ্টি যে বিধাতার এক অপূর্ব সাজ, একে দেখলেই কত কথা মনে পড়ে আজ""।

সত্যি  বিধাতা সৃষ্টি করেছে বৃষ্টি আর বৃষ্টি দেখে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ  করে থাকে নানা ভাবে। বৃষ্টি থেকে  কেউ গল্প,,কবিতা কিংবা কোন না কোন ভাবে নানান ধরনের অনেক কিছু সৃষ্টি হয়েছে, আগামীতেও হবে। আর মানুষ এই  সৃষ্টি দেখে মানুষই মানুষকে দিচ্ছে বড় বড় উপাধি। বৃষ্টির পানি সুস্বাদু, বৃষ্টির পানি তে রান্নাও করা যায়। বৃষ্টির এক অপরূপ সৃষ্টি দেখেই স্বয়ং বিধাতা বলেছে, তুমি আমার কোন কোন নিয়ামত কে অস্বীকার করিবে।

কিন্তু এই সমাজ বৃষ্টিকেও শান্তি তে থাকতে দিতে চায় না। তাই বৃষ্টির খারাপ দিক গুলো খুজে বের করে। মাঝে মাঝে মনে হয় বৃষ্টি যদি উপর থেকে না পড়ত কিংবা মানুষের অধীনে হতো, তাহলে দেখা যেতো এতোদিনে বৃষ্টি কে মানুষের মত পাথর দিয়ে মেরে ফেলত।আসলে আমরা অন্যের দোষ ধরতে খুব এক্সাপার্ট।অথচ নিজেদের দোষের বেলায় নেই। এটা যে আমাদের দেশের চিরাচরিত রোগ,সেটা আমাদের চোখে কারো পড়ে না।কেননা এমন অনেক দেশ আছে যেখানে বছরের ৬ মাস বৃষ্টি থাকে। তারা তো কখনো বলে না বৃষ্টির জন্য অসুবিধা হচ্ছে। আসলে আমাদের দেশে বড় সমস্যা হলো,  বৃষ্টির দিন এলেই আমরা রাস্তার কাজ ধরি, বৃষ্টির দিন এলেই আমরা ড্রেন পরিষ্কার করা শুরু করি।একজন তৈরী করে যায় আরেক জন এসে ভাংগতে থাকে হায়। আর অজুহাত দিয়ে থাকে বৃষ্টির। যারা বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে থাকে কিংবা বৃষ্টি কে সমস্যা মনে করে থাকে আসলে তারা এক শ্রেণীর মানুষ। বৃষ্টি যদি সমস্যা হতো তাহলে একটা সময় ছিল যখন মানুষ আল্লাহ মেঘ দে পানি দে বলে চিৎকার পারত। যারা বৃষ্টি কে ভালোবাসে তারাই সৃষ্টি করতে পারে। বৃষ্টি নিয়ে অনেক কবিতা, গল্প লেখা হয়েছে এমন কবি সাহিত্যিক আছে। যারা বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখে থাকে তারা সত্যিকার অর্থেই বৃষ্টি কে ভালোবাসে। ভালো না বাসলে কেউ কখনো বৃষ্টি নিয়ে বা অন্য কোন কিছু নিয়ে কবিতা লিখতে পারবে না। তবে হে অতিরিক্ত বৃষ্টি গরীব, দিনমজুর, শ্রমিক দের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে থাকে। সেটাও মনে করি আমাদের দেশ গরীব দেশ বলে। সর্বশেষ একটি কথা বলব, সেটা হলো বৃষ্টি ছিল , বৃষ্টি আছে,বৃষ্টি থাকবে - এটি যে বিধাতার সাঝ বৃষ্টি দেখলেই কত কথা মনে পড়ে আজ! 

Post a Comment

মন্তব্য বিষয়ক দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় বহন করবে না।

Previous Post Next Post