একজন বীরাচারীর জবানবন্দী ।। অন্তর চন্দ্র

 


কবিতা লিখতে গিয়ে হাত পুড়ে ফেললে
সেখানে ছাই আর ভস্ম থাকবে
চিতার পাশেও ছাই
একমুঠো বীরাচারী উৎকৃষ্ট
আলু পোড়ার থেকে বেগুন পোড়ার পার্থক্য
তারপর ভালো-মন্দ ইলাস্ট্রেশন
ডিস্ট্রিবিউশন ও অন্যান্য মার্কেটিং ইভেন্ট
স্ব-প্রকাশনায় থেকে থেকে কবিতার জঘন্য প্রকাশক
একদিন আবিষ্কার করল অন্নংভট্ট
কবিতা তাকে ছুঁয়েও দেখেনি
কাঠখোট্টা চোখের ইলিউশন
একবার ত’ শব্দের তৃতীয় বার্তায়
অবাস্তব অপ্রাকৃত অথচ অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে
বুড়োরা গেয়ে উঠলেন, ব্যাধের ভাষায় কবিতার শরীর
বিশ্বাস করুন, বাল্মিকির সাথে আমার দেখা হয়নি
তখন ব্যাসদেব ঘুমিয়ে ছিলেন
লাবণ্য জীবনানন্দ দাশকে বাইরে বের হতে দেননি
কবিতার শরীর ধরে আমি উঠতে চেয়েছিলাম—আমার নিকটবর্তী উঠোনে
কেউ একজন জিজ্ঞেস করুন, হ্যাপি আছি কিনা?
লেখালেখির খবর কি?
একটা প্রেম লিখুন!
একটা ইঁদুর!
একটা বিড়াল!
ইরি ধানের ক্ষেতে সবুজ শাড়ির আঁচল ধরে
মাকে অন্ততঃ ভালোবাসার কথাটিও বলতে পারলাম না
ভস্ম মেখে বীরাচারী হওয়ার ব্যাপারটা
আমার কাছে গন্ডগোলের এবং উৎকণ্ঠার
কবিতা লিখলেই আমার হাত পুড়ে যায়
গলার নার্ভগুলো ছিঁড়ে যায়
অজান্তেই কেউ আমাকে খুন করে চলে যায়
তারপর খবরের কাগজে বেরোয়
লোকটি কবি ছিল

Post a Comment

মন্তব্য বিষয়ক দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় বহন করবে না।

Previous Post Next Post