নীল রেইনকোট পরে এসেছিল সে— বৃষ্টিভেজা বিকেলে।
গলির মুখে জোড়া চোখ মুখোমুখি দাঁড়াতে।
কিন্তু শহর সেদিন কাঁপছিল মিছিল আর স্লোগানের জ্বরে।
হঠাৎ বাতাসের বুক চিরে আসে পাটকেলের শব্দ।
দাউদাউ আগুন পুরো শহরের আকাশে সাইরেন বাজায়।
ধোঁয়ার কুন্ডলি দখল করে ফুটপাতের ফুসফুস।
সাইন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট-
মুখোমুখি রক্ত-বারুদ মাখা প্রতিটি মুখ।
ফুটপাত আজ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ভীরু গলির আস্তিন টেনে রাজপথ নিয়ে আসে।
শ্যাওলা দেয়ালঘেঁষা ভেজা দুপুরে একটি কাঁপতে থাকা শরীরকে বুকে তুলে নেয় সে।
বৃষ্টির ফুসফুসে তখন রক্তের নিঃশ্বাস।
দূরে কোথাও উত্তেজিত জনতার গর্জন।
আর কাছাকাছি নীল রেইনকোটের ভিতর ধুকপুক করছে একটি হৃদয়।
তারপর—
একটি শব্দ।
শুধু একটি শব্দ।
বুকের ভেতর লাল ফুল ফোটে।
লাল বৃষ্টি বুকের জমিন বেয়ে রাজপথ অলিঙ্গন করে।
শুধু পড়ে থাকে একটি নীল রেইনকোট।
সন্ধ্যার বাতাসে তার দু'হাত উড়তে থাকে শূন্যে।
নিঃসঙ্গ মেয়েটি রক্তমাখা রেইনকোট কুড়িয়ে নেয়।
শহরের সমস্ত বৃষ্টির অরণ্য পাড়ি দেবার দৃঢ় শপথে এগোয় সে।
