টুকুদের পুকুরে শান বাঁধানো ঘাট। ঘাটটা অনেক বছরের পুরনো। জন্ম থেকেই টুকু ঘাটটা দেখছে। ঘাটে একটা বট গাছ জন্মেছে। বটগাছগুলো সাধারণত পুরনো বিল্ডিং বা ইটের দেয়ালে জন্মায়। গাছটা বেশ সুন্দর করে বাড়ছে।
সেদিন টুকুর
বাবা বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করছিল। বর্ষার সময় ঝোপঝাড়ে সাপের উপদ্রব বেড়ে
যায়। তাই সব কেটে ফেলা হচ্ছে। বটগাছের চারাটাও কেটে ফেলা হল। টুকুর গাছটার
জন্য মায়া হল।
সেদিন পত্রিকায় টুকু বনসাই সম্পর্কে
পড়েছে। বনসাই একটি সুন্দর শখ। টবে বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে তা ছোট করে রেখে বড়
গাছের মত দেখানো। পড়েই টুকুর বিষয়টা ভালো লাগে! সে করবে বলে ভাবছিল। এবার
সিদ্ধান্ত নিল বটগাছ দিয়েই বনসাই শুরু করবে। বটগাছ বনসাইয়ের জন্য সবচেয়ে
ভালো গাছ। বাবার কাটা বটগাছটা সুন্দর করে কেটে একটা টবে মাটি, গোবর, ইটের
গুড়ি মিশিয়ে পানি দিয়ে লাগিয়ে দিল। টবটি একটু ছায়ায় রাখল।
এভাবে
বেশ কতদিন কেটে গেল। এক সকালে বটগাছের কাছে এসে দেখে নতুন কুঁড়ি দেখা
দিয়েছে গাছে! দেখেই সে কী আনন্দ! তার আনন্দটা বেশি কারণ সে একটা প্রাণও
বাঁচাতে পেরেছে। এখন থেকে সে গাছ সংগ্রহ করবে বনসাই করার জন্য। এটাই টুকুর
একমাত্র শখ!
হামীম রায়হান,
পটিয়া, চট্টগ্রাম