বিজন কুমার সতেরো বছরের ডানপিটে স্বভাবের ছেলে। মেধা ভালো হলেও পড়াশুনায় মন নেই ছেলেটার।মাঝেমধ্যে পরের টুকটাক কাজ করে যে পয়সা পায় তাতে পকেট খরচের হিসাবটা ঠিকঠাক মতো হয়।একদিন বিজনের মা বিজনকে তিন মোহনার হাঁটে পাঠায় বাজার করার জন্য।বিজন কুমার হাঁটে গিয়ে তেল নুন সবজি না কিনো দু'টো মোটামুটি সাইজের ইলিশ মাছ কেনে।জৈষ্ঠ্যমাস বাজারে বেশ আম কাঁঠালও উঠেছে।সংসারের যা অবস্থা তাতে ইলিশ মাছ খাওয়া বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়।মাছ দুটো নিয়ে বাড়ী আসার পর বিজনের মা মনঃক্ষুণ্ন হলেও বিজনকে তেমন কিছুই বলেনি;অনেক দিন ভালো-মন্দ খাওয়া হয়না;ছেলে মানুষ হয়তো খেতে ইচ্ছে করেছে।গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের আলো চালু না হওয়ায় কেরোসিন তেলের মশাল, হারিকেন জ্বলে ঘরে ঘরে। সন্ধ্যার পরপরই মা রান্নার কাজ শেষ করেছিল।মাছ দু'টো রেখে সেই যে বের হয়েছে বাবু,ঘরে ফেরার কথা ভুলে গেছে। বাকিরা খেয়ে শুইয়ে পড়েছে ততোক্ষণে । রাত এগারোটার দিকে বাড়ি ফিরে বুঝতে পারে ঘরে বাবা আছে;বাবাকে বড্ড পায় বিজন।
এতো রাতে মা-কে ডাকলে বাবা জেগে যাবে;সেধে সেধে ধোলাই খাওয়ার কোন ইচ্ছে ছিলো না বিজনের ।একারনে চুপিচুপি বেড়ার ফাঁক দিয়ে রান্না ঘরে ঢোকে।আকাশে চাঁদের আলো ঝলমল করছিল;বেড়ার ফাঁক দিয়ে যেটুকু আলো রান্নাঘরে প্রবেশ করে তাতে সবকিছু পষ্ট দেখা যায়।একারনে কোন প্রকার আলো না জ্বেলেই বিজন কুমার একটা থালায় ভাত বাড়ে, এক পিস রান্না করা মাছ নেয়। হাত ধৌত করার পর থালার দিকে তাকিয়ে দেখে মাছ নেই। বিজন মনে মনে ভাবে বিড়ালে নিয়েছে বোধ-হয়। আশপাশে তাকিয়ে দেখে কোন বিড়াল নেই;বাড়িতেও তো কোন বিড়াল নেই!বিজনের স্মরণে আসে তিন মোহনার হাঁট থেকে ফেরার পথে একটা অন্ধকার জায়গায় রাস্তার দুপাশে মৃত লোকদের চিতা।ওখান থেকে ফেরার সময় আচমকা একটা দমকা বাতাস এসেছিল;শরীরটাও ভার ভার লাগছিলো,ব্যাগের মধ্যে মরা মাছ লাফাচ্ছিল। হয়তো কোন ভূত প্রেত আমার পিঁছু নিয়েছে। বিজন পরে আরো একটা মাছ নেয় ভাতের থালায়;এবার রান্না ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তিন-চারটে লম্বা হাত বিজনের সামনে বাড়িয়ে দেয়। হাতের নখ গুলো বড় বড়,লম্বা পশমওয়ালা চামড়া, আঙ্গুল গুলো কঞ্চি বাঁশের মতো মোটা।পেত্নী কন্ঠে বলে ওঠে আমাকে মাছ দাও, আর একজন বলে আমাকে দাও।বিজন ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে।মা-বাবা সব শুনে বলে, এতো মেছো পেত্নীর কারসাজি।
শুভজ্যোতি মন্ডল মানিক, গ্রামঃপাথুরিয়া, পোস্টঃকালিবাড়ী বাজার, মোড়েলগঞ্জ-বাগেরহাট।