এইখানে, যেখানে বন ছিল, জল ছিল,
পাখি ও পাতার স্বর ছিল,
সেখানে এখন লোহা আছে, ইস্পাত আছে
সিমেন্ট ও ধাতুর ব্যঞ্জন আছে।
বিবর্তনে আমি চিন্তিত হইনি কখনো
প্রকৃতির নগরায়নে আমি এক বেখেয়াল মন
দীঘির জলের মত স্ফটিক মেঝেতে
গাঢ় অবয়ব দেখে ভেবেছি চমৎকার-
স্বস্তিতে চোখ নিভিয়ে কেটেছে সকাল।
ভোগে ভোগে গিয়েছে সময়
হরিণের রূপ ধরে বেয়ে আসে সুশ্রী শৃগাল।
বিবর্তনে আমি চিন্তিত হইনি কখনো
নগর বাতির সাথে জোনাকির
পরাগায়ণে আমি এক বেখেয়াল মন
বুঝিনি সব কিছু নিবিড়
বস্তুসংস্থানে একটির সাথে সংযুক্ত অপর।
এখন ঘুম নয় অথচ ঘুমের ঘোরে অস্ফুট বেদনা হয়
দুঃস্বপ্নে দেখি মানুষকে আয়ত্ত
করে ফেলেছে শৃগালের স্বর।
মিছিলে শ্লোগান নেই
কবিতায় প্রাণ নেই
চাঁদের জোছনা নেই
প্রেয়সীর বুকে প্রেম নেই কাগজের বন
আহ!মানুষ পিষছে মানুষ
পুঁজির চারা রুয়ে দিতে দিতে
সভ্য শিকারে বিঁধছে পরস্পর।।
বিবর্তন!প্রেমহীন হিসেবি প্রেয়সী আমার
শক্ত দেয়ালে পিংপং বলের মত
প্রতিফলনে ফিরিয়ে দিচ্ছ উদাসীন পাপ এর আধার।
যারা পাতা ঝরে গেলে কেঁদে ওঠে
এডালে ওডালে যায়-
প্রায়শ্চিত্তে হাহাকার সর্বস্ব হৃদয় নিয়ে
প্রিয়তম তাদের বলে যেতে চাই;
যুদ্ধ উল্কাপাত দুর্ভিক্ষ অথবা মহামারী নয়
মানুষের বিলুপ্তি প্রোথিত আছে বিবর্তনে
নীরবে সয়ে যাওয়াতে, সরে যাওয়াতে তার ক্ষয়।